Road To Scholar-এর যাত্রা শুরু ২০২৪ সালে, যখন আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে শুরু করি।
মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চাওয়া আরও অনেক শিক্ষার্থীর মতো আমিও খুব দ্রুত বুঝলাম, সঠিক সুযোগ খুঁজে পাওয়া যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ব্যাপারটা শুধু একটা ইউনিভার্সিটি খোঁজা ছিল না। আমার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মেলে এমন প্রোগ্রাম চিনতে হতো, যাঁদের গবেষণার আগ্রহ আমার সাথে মেলে এমন প্রফেসর খুঁজতে হতো, সম্ভাব্য সুপারভাইজার দেখতে হতো, আর এমন স্কলারশিপ ও ফান্ডিং খুঁজতে হতো যা দিয়ে বিদেশে পড়াশোনা আর্থিকভাবে সম্ভব হয়।
আমার যে তথ্য দরকার ছিল তা ছড়িয়ে ছিল শত শত ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট, ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল, রিসার্চ গ্রুপের পেজ, স্কলারশিপ পোর্টাল আর আরও নানা অনলাইন উৎসে। প্রতিটি ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের গঠন আলাদা, প্রতিটি প্রফেসরের রিসার্চ প্রোফাইল আলাদা, আর ফান্ডিংয়ের তথ্য প্রায়ই ভর্তির শর্ত থেকে আলাদা জায়গায় প্রকাশ করা হতো।
সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া ছিল চ্যালেঞ্জের অর্ধেক। সবকিছুর হিসাব রাখা ছিল বাকি অর্ধেক।
যখন স্প্রেডশিটই হলো প্রথম সমাধান
ক্রমেই বাড়তে থাকা তথ্য সামলাতে আমি Excel স্প্রেডশিট বানাতে শুরু করি। ইউনিভার্সিটি, প্রফেসর, গবেষণার আগ্রহ, আবেদনের শর্ত আর ফান্ডিংয়ের সুযোগ আলাদা আলাদা শিটে সাজাই। এটা ছিল একটা দিশেহারা প্রক্রিয়ায় কিছুটা শৃঙ্খলা আনার আমার নিজের উপায়।
শুরুতে এতে কাজ হয়েছিল। আমি সুযোগগুলো তুলনা করতে পারতাম, নোট রাখতে পারতাম, আর ধীরে ধীরে আমার আবেদনের যাত্রার জন্য একটা ব্যক্তিগত ডেটাবেস গড়ে তুলছিলাম।
কিন্তু ডেটাবেস যত বড় হলো, চ্যালেঞ্জও তত বাড়ল।
ইউনিভার্সিটির তথ্য বদলে যেত। প্রফেসররা তাঁদের গবেষণার আগ্রহ আপডেট করতেন। আবেদনের ডেডলাইন পার হয়ে যেত, নতুন সুযোগ আসত, আর ফান্ডিংয়ের তথ্য পুরোনো হয়ে যেত। প্রতিটি স্প্রেডশিট নির্ভুল রাখতে প্রতিনিয়ত হাতে কাজ করতে হতো। ডেটাবেসের এক অংশ আপডেট করলে বাকিগুলো নিজে থেকে আপডেট হতো না, আর সবকিছু সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল।
আমি বুঝলাম, সমস্যাটা শুধু অনলাইনে থাকা তথ্যের পরিমাণ নয়। সমস্যা হলো তথ্যগুলো যেভাবে ছড়িয়ে আছে, সাজানো হয়, রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় আর খুঁজে পাওয়া যায়, সেই পদ্ধতিতে।
সময় বাঁচাতে স্প্রেডশিট বানানো শুরু করেছিলাম, কিন্তু সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করাই ধীরে ধীরে আরেকটা সময়সাপেক্ষ কাজ হয়ে উঠছিল।
আইডিয়া: যদি সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যেত?
স্প্রেডশিট নিয়ে কাজ করতে করতে আমার মনে একটা প্রশ্ন আকার নিতে শুরু করল:
পুরো প্রক্রিয়াটা যদি আরও স্মার্ট আর স্বয়ংক্রিয় করা যেত?
- শিক্ষার্থীরা যদি ডজন ডজন ওয়েবসাইটে বারবার না খুঁজে একটা প্ল্যাটফর্মেই ইউনিভার্সিটি দেখতে, প্রাসঙ্গিক প্রফেসর খুঁজে পেতে, গবেষণার সুযোগ বুঝতে আর ফান্ডিংয়ের তথ্য পেতে পারত?
- তথ্যগুলো যদি নিয়ম মেনে সংগ্রহ, সাজানো আর রক্ষণাবেক্ষণ করা যেত, যাতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের জটিল স্প্রেডশিট বানাতে ও সামলাতে না হয়?
- আর এই প্ল্যাটফর্ম যদি শুধু ইউনিভার্সিটি খোঁজার বাইরে গিয়ে এমন সুযোগ চিনতে সাহায্য করত, যা সত্যিই তাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড আর গবেষণার আগ্রহের সাথে মেলে?
এই প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে একটা বড় স্বপ্নে পরিণত হলো: এমন একটা কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম বানানো, যা উচ্চশিক্ষা নিয়ে খোঁজখবরকে আরও গোছানো, সহজলভ্য আর কার্যকর করবে।
আমি ইউনিভার্সিটির তালিকা দেখানো আরেকটা ওয়েবসাইট বানাতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম নিজের জীবনে দেখা একটা সমস্যার বাস্তব সমাধান বানাতে — এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যা বারবার একই খোঁজাখুঁজি কমাবে, খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করবে, আর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
আইডিয়া থেকে Road To Scholar
সেই আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেওয়াটা ছিল আরেক যাত্রা।
লক্ষ্যটা ছিল উচ্চাভিলাষী: ইউনিভার্সিটি, প্রফেসর, গবেষণার আগ্রহ আর উচ্চশিক্ষার সুযোগের তথ্য একটা গোছানো ও খোঁজার উপযোগী জায়গায় একসাথে আনা।
হাতে চালানো স্প্রেডশিটের ওপর নির্ভর না করে আমি এমন একটা সিস্টেমের দিকে কাজ শুরু করলাম, যা বড় পরিসরে তথ্য সাজাতে পারে আর সুযোগ খোঁজার একটা নিয়মতান্ত্রিক পথ দেয়।
Road To Scholar-এর প্রথম সংস্করণ সেই স্বপ্নের পথে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কয়েকটি দেশের ইউনিভার্সিটি আর প্রফেসরদের তথ্য একসাথে এনেছে, যাতে মাস্টার্স ও পিএইচডি আবেদনকারীরা এক জায়গা থেকেই সম্ভাব্য একাডেমিক পথগুলো দেখতে পারেন।
প্ল্যাটফর্মটা এখনো গড়ে উঠছে। যত ফিচারের কথা ভাবি তার সব এখনো তৈরি হয়নি, আর বানানোর আছে আরও অনেক কিছু। এখনকার সংস্করণকে আমি শেষ পণ্য হিসেবে দেখি না, বরং এমন কিছুর ভিত হিসেবে দেখি যা সময়ের সাথে আরও অনেক কাজের হয়ে উঠতে পারে।
আমার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন হলো Road To Scholar-কে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খোঁজার আরও স্মার্ট ও পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা — যা শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ইউনিভার্সিটি চেনা, নিজের আগ্রহকে প্রাসঙ্গিক গবেষণার সাথে মেলানো, ফান্ডিংয়ের সুযোগ খোঁজা আর গ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথে এগোনো সহজ করবে।
শুধু একটা ওয়েবসাইট নয়
Road To Scholar গভীরভাবে জড়িয়ে আছে একজন শিক্ষার্থী আর ভবিষ্যৎ গবেষক হিসেবে আমার নিজের অভিজ্ঞতার সাথে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তথ্য খোঁজা, সুযোগ তুলনা করা আর কোন উৎসটা প্রাসঙ্গিক ও হালনাগাদ তা বোঝার চেষ্টা করা কতটা ক্লান্তিকর, তা আমি জানি।
আমি এটাও জানি, প্রতিটি আবেদনের পেছনে আছেন একজন মানুষ, যিনি একটা ভালো ভবিষ্যতের জন্য সময়, পরিশ্রম আর আশা বিনিয়োগ করছেন।
তাই আমি বিশ্বাস করি, গোছানো ও কাজের তথ্য পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যেন শক্ত আবেদন তৈরি, নিজের গবেষণার আগ্রহ গড়ে তোলা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বেশি সময় দিতে পারেন — আর নানা উৎস থেকে বারবার একই তথ্য জোগাড়ে কম সময় দিতে হয়।
আমি চাই Road To Scholar একটা ডিরেক্টরির চেয়ে বড় কিছু হয়ে উঠুক — এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যা উচ্চশিক্ষার পুরো যাত্রায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে, আরও ভালো খোঁজার টুল, আরও গোছানো তথ্য আর একাডেমিক সুযোগ খোঁজার ক্রমেই আরও বুদ্ধিদীপ্ত উপায় নিয়ে।
কাজটা এখনো চলছে, আর আমি ধাপে ধাপে এটা গড়ে তুলছি।
সামনের পথ
Road To Scholar শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের একটা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ থেকে। আজ এটা সেই চ্যালেঞ্জকে এমন একটা সমাধানে রূপ দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টা, যা আমার নিজের আবেদনের যাত্রা ছাড়িয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থীর কাজে আসতে পারে।
এখনো অনেক পথ বাকি। ডেটাবেস আরও বড় হবে, প্ল্যাটফর্ম আরও উন্নত হবে, আর প্রজেক্ট বাড়ার সাথে সাথে নতুন ফিচার আসবে। তথ্যকে কাজের রাখা আর ডেটা আপডেটে স্বচ্ছ থাকা সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকবে।
আমি মনে করি না, ছড়ানো-ছিটানো তথ্যের কারণে উচ্চশিক্ষার পথ অকারণে জটিল হওয়া উচিত।
আমার স্বপ্ন সহজ: সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার যাত্রাকে আরও সহজ, গোছানো আর সবার নাগালে আনা।
Road To Scholar সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার আমার চেষ্টা।
আর এটা কেবল শুরু।





